মার্কিন সেনা আটকের বিষয়ে ইরানের দাবি নাকচ যুক্তরাষ্ট্রের
যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সেনাকে আটক করা হয়েছে বলে ইরানের করা দাবি সরাসরি নাকচ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে কয়েকজন মার্কিন সেনা ইরানের হাতে বন্দি হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ তথ্য গোপন করে তাদের নিহত বলে দাবি করছে।
লারিজানি লিখেছেন, আমার কাছে তথ্য এসেছে যে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা যুদ্ধে নিহত হয়েছে। সত্য তারা বেশিদিন গোপন রাখতে পারবে না। খবর আল জাজিরার।
তবে এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ইরান বারবার ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে এবং এটি তারই আরেকটি উদাহরণ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক মুখপাত্রও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সেনা আটক করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কুয়েতের একটি বন্দরে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
নিহত সেনাদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তারা হলেন—ডেকলান কোডি, জেফ্রি ও’ব্রায়েন, কোডি খর্ক, নোয়া টিটজেন্স, নিকোল আমোর ও রবার্ট মারজান।
এদিকে যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সাফল্য পাচ্ছে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলায় প্রায় ১৮০ জন শিশু নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক