নেপালে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে বলেন্দ্র শাহর দল আরএসপি
নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে র্যাপ সঙ্গীত থেকে রাজনীতিতে আসা বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) প্রত্যক্ষ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত আংশিক ফলাফল অনুযায়ী দলটি এক বিশাল বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
‘বালেন’ নামে বেশি পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহর রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভোটেও এগিয়ে রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী রক্তক্ষয়ী যুব আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম নির্বাচন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বলেন্দ্র শাহ নিজে চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে তার নিজের আসনে পরাজিত করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা অলির বিরুদ্ধে এই জয় এবং রাজধানীর মেয়রের পদ থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বালেনের এই উত্থান নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অন্যতম নাটকীয় ঘটনা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সেই 'জেন জি' আন্দোলনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হলেও তা দ্রুত দুর্নীতি ও ভেঙে পড়া অর্থনীতির বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি সভার ২৭৫টি আসনের প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬৫টি সরাসরি এবং ১১০টি সমানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।
আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচনের ১৫৩টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এরমধ্যে আরএসপি পেয়েছে ১১৭টি আসন (একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা)। এ ছাড়া অন্যান্য দলের আসন সংখ্যা হলো-
নেপালি কংগ্রেস: ১৭টি আসন।
মার্ক্সবাদী দল (কেপি অলি): ৭টি আসন।
মাওবাদী কেন্দ্র (পুষ্প কমল দাহাল): ৭টি আসন
বাকি ১২টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বালেনের আরএসপি এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া সমানুপাতিক ভোটেও দলটি এ পর্যন্ত গণনাকৃত ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাকি আসনগুলোতে ভোট গণনা মসৃণভাবে চলছে। আজ রাতের মধ্যে সরাসরি ভোটের সব ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’
এদিকে, বিজয় উদযাপনের সময় বালেনকে তাঁর চিরচেনা কালো চশমা পরে গাড়ির সানরুফ থেকে হাত নাড়তে দেখা যায়। অলি নিজে বালেনকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর পাঁচ বছরের সফল কার্যকাল কামনা করেছেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সেই প্রাণঘাতী সহিংসতার তদন্তে গঠিত কমিশন রোববার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সেই মৃত্যুর জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে দেখা যায়নি। ৯০০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন সদস্য বিজ্ঞান রাজ শর্মা বলেন, ‘আমরা ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করেছি এবং সুপারিশ প্রদান করেছি। এখন এটি সরকারের সম্পত্তি এবং সরকারই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
কেপি শর্মা অলি অবশ্য বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন এবং এই সহিংসতার জন্ ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ দায়ী করেছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক