যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও চীনের সাড়া কেমন?
ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে কালো মেঘ জমেছে, তা কাটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সংকটের এই মুহূর্তে মিত্রদের পাশে পাওয়ার যে আশা তিনি করেছিলেন, তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। খবর এএফপির।
ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো শক্তিশালী দেশগুলো ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি, বরং দেশগুলোর পক্ষ থেকে এসেছে শীতল ও সতর্ক প্রতিক্রিয়া।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরাসরি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সম্বোধন করে হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাঙ্কারগুলোর পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ জানান। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, যেহেতু এই দেশগুলো ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীল ও বর্তমানে কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখা তাদেরও দায়িত্ব। কিন্তু তার এই কূটনৈতিক চাপ খুব একটা কাজে আসছে না।
ফ্রান্স
সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ এই অভিযানে অংশ নেবে না। বর্তমানে তাদের বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থানে থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্যারিস। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাজ্যও কোনো সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আপাতত এই অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য ‘বিকল্প’ নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে কেবল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাপান
জাপান সরকার স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তারা কেবল আমেরিকার অনুরোধের ভিত্তিতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না। জাপানের নীতিনির্ধারকদের মতে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ ‘স্বাধীন বিচার’ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়াও একই সুর বজায় রেখে জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই আহ্বান অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।
চীন
এদিকে, বেইজিংয়ের অবস্থান এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানি তেলের বড় ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও চীন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সব পক্ষের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বর্তমানে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক