উপকূলে হামলা হলে পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যদি ইরানের কোনো উপকূল বা দ্বীপে হামলা চালায়, তবে পারস্য উপসাগরে ‘নৌ-মাইন’ স্থাপন করার হুমকি দিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল আজ সোমবার (২৩ মার্চ) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শত্রুপক্ষ যদি ইরানের উপকূল বা দ্বীপে আক্রমণের কোনো চেষ্টা করে, তবে স্বাভাবিকভাবেই সামরিক রীতি অনুযায়ী পারস্য উপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার সমস্ত প্রবেশপথ এবং যোগাযোগ পথে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে উপকূল থেকে স্থাপনযোগ্য ‘ড্রিফটিং মাইন’ও (স্রোতে ভাসমান মাইন) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
ইরানের এই প্রতিরক্ষা কাউন্সিলটি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অধীনে পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই কাউন্সিলটি গঠন করা হয়েছিল।
এর আগে গতকাল রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পায়। সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ারও হুমকি দেন।
এর জবাবে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরানের সামরিক বাহিনী এই হুমকি প্রদান করে।
ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে মার্কিন হুমকি কার্যকর করা হয়... তবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আমাদের ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এটি আর খোলা হবে না।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরান ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং যেসব কোম্পানিতে মার্কিন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হানা হবে।’ দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অ্যানালিটিক্স ফার্ম 'কপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক