গণঅভ্যুত্থান পদচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচারের সুপারিশ
নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার সমর্থিত একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সুপারিশ করা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনটির ফাঁস হওয়া একটি কপিতে বলা হয়েছে, ‘তৎকালীন নির্বাহী প্রধান, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে নেপাল সরকারকে একটি তদন্ত, অনুসন্ধান ও বিচার চালানোর সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’
২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী এক অভ্যুত্থানে উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই অর্থনৈতিক দুর্দশার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভের প্রথম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৯ জন তরুণ নিহত হন।
ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক প্রাণহানি রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
যাদের বিচারের সুপারিশ করা হয়েছে
তদন্ত কমিশন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরুর সুপারিশ করেছে। তারা হলেন—নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী প্রধান কেপি শর্মা ওলি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক ও নেপাল পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুং।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট আদেশ ছিল কি না তা প্রমাণিত না হলেও, নির্বিচারে গুলি চালানো বন্ধ করার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই অবহেলার কারণেই অনেক শিশু ও কিশোর প্রাণ হারিয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের জেরে নেপাল সরকার ভেঙে পড়ে ও ওলি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এই সহিংসতার তদন্তে কমিশন গঠন করেন। কমিশনের সদস্য বিজ্ঞান রাজ শর্মা জানান, ২০০ জনেরও বেশি লোককে জিজ্ঞাসাবাদের পর ৯০০ পৃষ্ঠার এই মূল প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এই মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবারই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহ ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই এই প্রতিবেদন ফাঁসের ঘটনায় নেপালের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক