ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন পেছালেন ট্রাম্প : তেলের দামে পতন
ইরানের কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পরিকল্পিত হামলার সময়সীমা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবারের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের এই দাম কমা বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল করলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ এখনও কাটেনি। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত হাজার পদাতিক সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর অবরোধের ফলে তেলের এই আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপকে’ লক্ষ্য করে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের ১০ দিনের এই বিরতি ঘোষণা তাকে সাময়িকভাবে স্তিমিত করেছে। তেলের বাজারের এই অস্থিরতা বর্তমানে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জার্মানির মতো মিত্র দেশগুলো ইতোমধ্যে এই যুদ্ধকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘মহাবিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক