১৩৫ বছরের নিয়ম ভেঙে মার্কিন ডলারের নোটে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির মুদ্রাব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। আগামী ৪ জুলাই থেকে মার্কিন ব্যাংক নোটগুলোতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর দেখা যাবে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত এই পদক্ষেপটি কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য ইতিহাসে প্রথম। খবর আল জাজিরার।
এখন পর্যন্ত মার্কিন ব্যাংক নোটগুলোতে—যা ১, ২, ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ ডলার মূল্যমানের নোটে বিভক্ত—শুধু ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকার নিয়ম প্রচলিত ছিল। ১৩৫ বছরের সেই ঐতিহ্য ভেঙে এখন থেকে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত হতে যাচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে বলেছেন, ট্রাম্প দেশকে ‘অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ এবং ‘রাজস্ব শক্তি ও স্থিতিশীলতার’ পথে নিয়ে গেছেন। এই পরিবর্তনটি মূলত তার সেই ‘ঐতিহাসিক অর্জনকে’ স্বীকৃতি দেওয়ার একটি মাধ্যম।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্পের অধীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের মহামারি-পরবর্তী ধারার সাথে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২২-২০২৪ সালের গড় ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে কিছুটা কম।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ও আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্যতম প্রধান দাবিদার গ্যাভিন নিউসম এই ঘোষণাকে উপহাস করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘এখন মার্কিন নাগরিকরা ঠিকই জানতে পারবে কাকে দোষ দিতে হবে, যখন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গ্যাস, বাড়ি ভাড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য বেশি অর্থ দিতে হবে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত রডনি মিমস কুক জুনিয়রের নেতৃত্বে ইউএস কমিশন অফ ফাইন আর্টস প্রেসিডেন্টের ছবি সম্বলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। প্রচলিত আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টদের ছবি মুদ্রায় ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও, আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে স্বৈরশাসক ও রাজাদের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। জন এফ কেনেডি সেন্টার, ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস এবং এমনকি আসন্ন এক শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে তিনি নিজের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক