ইরানে পানি সরবরাহ স্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা
ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ স্থাপনা ও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের হাফতগেল এলাকায় আজ রোববার (২৯ মার্চ) সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়। সেখানে ১০ হাজার ঘনমিটার (প্রায় ১ কোটি লিটার) ধারণক্ষমতার একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। এটি বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ‘সমান জবাব’ নীতিতে বিশ্বাসী। অতীতে এমন হামলার পর ইরান পাল্টা আঘাত হেনেছে। ফলে এই হামলার পরও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী তেহরানেও ব্যাপক বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা হলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাতে অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
এছাড়া তাবরিজ, শিরাজ ও হরমোজগান প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। হরমোজগানের মিনাব শহরে যুদ্ধের প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় শতাধিক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। ওই এলাকায় এখনও ড্রোন তৎপরতা ও একাধিক হামলার খবর মিলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক