ইরান যুদ্ধে জড়িত মার্কিন বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করল স্পেন
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের বিরোধিতায় স্পেন তাদের আকাশসীমা মার্কিন বিমানের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। সংঘাতের বিরুদ্ধে দেশটির অবস্থানের এটিই সর্বশেষ পদক্ষেপ। খবর আলজাজিরার।
স্পেনের পত্রিকা ‘এল পাইস’ সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশের পর, আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলেস সাংবাদিকদের কাছে এই আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মার্গারিটা রবলেস বলেন, ‘শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ফোর্সের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার করা হয়েছিল। তাই ইরানের যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আমাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং স্বাভাবিকভাবেই স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহারেরও অনুমতি নেই।’
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মনে করি স্পেনের অবস্থান সবার জানা এবং এটি অত্যন্ত স্পষ্ট।’ তিনি ইরানের ওপর এই যুদ্ধকে ‘চরম অবৈধ এবং চরম অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্পেন চলতি মাসের শুরুর দিকেই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে তাদের যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্পের হুমকি
স্পেন সরকার দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত রোটা এবং মোরন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ১৫টি মার্কিন বিমান সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী সরকারের অধীনে স্পেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপের সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমন এক সময়ে স্পেন এই অবস্থান নিল যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর হামলার সরাসরি বিরোধিতা না করে কেবল নামমাত্র উত্তেজনা হ্রাস এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছিলেন, ‘এভাবেই মানবতার বড় বড় বিপর্যয়গুলো শুরু হয়... বিশ্ব তার সমস্যাগুলো সংঘাত এবং বোমা দিয়ে সমাধান করতে পারে না।’
স্পেন গাজায় ইসরায়েলের জেনোসাইড বা গণহত্যামূলক যুদ্ধেরও একজন কড়া সমালোচক। গত অক্টোবরে স্পেনের পার্লামেন্ট ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আইনের অনুমোদন দেয়, যার মাধ্যমে দেশটিতে অস্ত্র, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
এই ঘোষণার ফলে ইসরায়েল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, তখনই ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক