পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড
নাসার আর্টেমিস-২ মিশন পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় ৩টা ৫৮ মিনিটে ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকা চার নভোচারী চার লাখ ১৭১ কিলোমিটারের আগের রেকর্ড অতিক্রম করেন। এই রেকর্ডটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের সময় তৈরি হয়েছিল। খবর আল জাজিরার।
মিশনটি বর্তমানে চাঁদের অদৃশ্য পৃষ্ঠ ঘুরে আসছে এবং সর্বোচ্চ প্রায় চার লাখ ছয় হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। এই যাত্রায় নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করবেন। এরপর ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি অনুসরণ করে মহাকাশযানটি প্রায় চার দিনে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
ঐতিহাসিক এই দিনে নভোচারীরা প্রয়াত জিম লাভেলের একটি বার্তা দিয়ে দিন শুরু করেন। তিনি তার বার্তায় বলেছিলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন—ব্যস্ততার মাঝেও দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলবে না।
চাঁদের অদৃশ্য পাশে ভ্রমণের সময় নভোচারীরা আগে অদেখা অঞ্চল দেখতে পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে পাঠানো একটি ছবিতে চাঁদের বিশাল গহ্বর ‘ওরিয়েন্টালে বেসিন’ ধরা পড়েছে, যা আগে কেবল মানববিহীন মিশনের ক্যামেরায় দেখা গিয়েছিল।
নাসার বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রযুক্তিগত উন্নতির পরও মানুষের চোখই সবচেয়ে কার্যকর পর্যবেক্ষণ মাধ্যম। মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী কেলসি ইয়াং বলেন, মানুষের চোখের ক্ষমতা কোনো ক্যামেরার চেয়েও বেশি।
এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বৈচিত্র্য। কমান্ডার রেইড উইজম্যানের নেতৃত্বে থাকা দলে ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ করছেন, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, চাঁদের পেছনে যাওয়ার সময় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য মহাকাশযানের সঙ্গে পৃথিবীর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে।
এই ফ্লাইবাই মিশন ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ এবং ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক