যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে কমেছে তেলের দাম, শেয়ারবাজারে উত্থান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম কমেছে, বন্ডের চাহিদা বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও তেল ও গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিক হতে পারে, যা বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা চলছে। ইরানও জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা বন্ধ হলে তারাও পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করবে এবং এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাজারে যে অস্থিরতা ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ফিউচার প্রায় ১৬.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমে আসে।
একই সঙ্গে এসএন্ডপি ৫০০ ফিউচার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ডলারের দর কিছুটা কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতদিন ডলার ছিল নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা, কিন্তু এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলাচ্ছে।
হ্যারিস ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জেমি কক্স বলেন, বাজার আগে থেকেই ধারণা করছিল ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে একটি ‘এক্সিট পথ’ খুঁজছেন। আজ তিনি সেটি পেয়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন।
যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এশিয়ার শেয়ারবাজারেও উত্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ফিউচারও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক সূচনা হলেও সামনে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, এটি ভালো শুরু এবং স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খোলার পথ তৈরি করতে পারে- তবে এখনও অনেক শর্ত ও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়, যার ফলে মার্চে তেলের দাম ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাসিক বৃদ্ধি দেখে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক