ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প ‘ভুল’ করেছেন : স্টারমার
ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থানীয় সময় আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি না খুললে ‘পুরো একটি সভ্যতা’ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ‘ভুল’।
এর আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘আমি এমন শব্দ ব্যবহার করতাম না’ বলে এড়িয়ে গেলেও, আজ কমনস-এ দাঁড়িয়ে স্টারমার আরও কঠোর ভাষায় নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ইরানি বেসামরিক নাগরিকরা তাদের শাসকগোষ্ঠীর হাতে ইতোমধ্যেই ‘অপরিমেয় ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন। এমতাবস্থায় সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এমন হুমকি অনভিপ্রেত।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার দুপুর ২টা থেকে ইরানের সব বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ এলাকার দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো ইরানি ‘দ্রুত আক্রমণকারী জাহাজ’ শনাক্ত হওয়ামাত্রই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। ওই এলাকার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ‘অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি’ এবং ‘পরিদর্শনের’ সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রশাসনের ‘পরিবর্তনশীল লক্ষ্য’ বা ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তনকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছেন। ইরানের সংসদ স্পিকার সাফ জানিয়েছেন, তেহরান কোনো ধরনের হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনার জেরে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও এক প্রকার বাদানুবাদে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প পোপকে ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়ঙ্কর’ বলে অভিযুক্ত করলেও ভ্যাটিকান জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই নিয়ে বিতর্ক করার কোনো ইচ্ছা পোপের নেই।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক