তেহরানে আসিম মুনির-গালিবাফ বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে মধ্যস্থতাকারীদের ইরান সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গতকাল আমাদের দেশে এসেছেন এবং আজ সকালে তিনি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছেন।’
পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর, বাঘের গালিবাফকে বর্তমানে ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নিতে তিনি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন।
এদিকে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তার প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছানোর একদিন পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বার্তা নিয়ে আসার উপলক্ষ হিসেবে বর্ণনা করলেও বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা কোনো বড় সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলেও, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পরবর্তী আলোচনা ‘খুব সম্ভবত’ ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, বৈঠকে আসিম মুনির সামরিক পোশাকে ছিলেন এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অভিজ্ঞ সদস্য গালিবাফ ইরানি কর্মকর্তাদের প্রথা অনুযায়ী টাই ছাড়া গাঢ় রঙের স্যুট ও সাদা শার্ট পরেছিলেন।
এর আগে গত শনিবার, গালিবাফ এবং তার প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করে গালিবাফ বৃহস্পতিবার লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সাথে এক টেলিফোন সংলাপে বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি হওয়া ইরানের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক