পশ্চিমবঙ্গে বেশিরভাগ বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি
ভারতের সবথেকে উত্তপ্ত রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে থাবা বসানোর যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বিজেপি নিয়েছিল, তা কি অবশেষে সফল হতে চলেছে?
বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোলগুলোর ইঙ্গিত বলছে, বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টি সফল হওয়ার পথে। খবর এডিটিভির।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ সবেমাত্র শেষ হওয়ায় নির্ভুল তথ্যের জন্য 'অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া' তাদের জরিপ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশ করবে। তবে অন্য ছয়টি সংস্থা ইতোমধ্যেই তাদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে চারটি সংস্থাই বলছে বিজেপি রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ‘প্রজা পোল’-এর পরিসংখ্যান তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে। সংস্থাটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে বিজেপি ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেতে পারে (যা ২০২১ সালে ছিল ৭৭টি), যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন কমে ৮৫ থেকে ১১০-এ নেমে আসতে পারে (২০২১ সালে যা ছিল ২১৫টি)।
‘পি-মার্ক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন এবং তৃণমূল ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ‘মাত্রিজ’ বিজেপির জন্য ১৪৬-১৬১টি আসন এবং ‘পোল ডায়েরি’ ১৪২-১৭১টি আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এই সংস্থাগুলোর মতে, তৃণমূল যথাক্রমে ১২৫-১৪০ এবং ৯৯-১২৭টি আসন পাবে।
পুরো উল্টো চিত্র দেখা গেছে ‘জনমত পোল’-এর পরিসংখ্যানে। তাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস টানা তৃতীয়বারের মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে। এই সংস্থাটি তৃণমূলের জন্য ১৯৫-২০৫টি এবং বিজেপির জন্য ৮০-৯০টি আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফলের খুব কাছাকাছি।
‘পিপলস পালস’ নামে আরেকটি সংস্থাও জানিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৭-১৮৭টি আসন জিতবে এবং বিজেপি ৮৫ থেকে ১১০টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
যদি এই জরিপগুলো সঠিক হয়, তবে বিজেপি ভারতের নির্বাচনি ইতিহাসে এক বিরল কৃতিত্ব অর্জন করবে। বিজেপির এই যাত্রাটি ছিল ধাপে ধাপে। বামদের পতনের সুযোগ নিয়ে বিজেপি যে বাংলায় একটি উদীয়মান শক্তি হয়ে উঠছে, তৃণমূল প্রথম তার স্বাদ পায় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। সেবার বিজেপি রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয়, যেখানে তৃণমূল মাত্র ২২টি আসন পেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও একই রকম ফলাফল হতে পারে আঁচ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল তখন কোমর বেঁধে নামে। তারা বিজেপিকে 'বহিরাগত' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। সেই কৌশল কাজে দেয় এবং তৃণমূল ২১৫টি আসন পায়, যেখানে বিজেপি থমকে যায় ৭৭-এ।
তিন বছর পরের লোকসভা নির্বাচনে (২০২৪) তৃণমূল তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করে এবং বিজেপিকে মাত্র ১২টি আসনে আটকে রাখতে সক্ষম হয়, নিজেরা জয়ী হয় ২৯টিতে।
তবে ভোটের হারের ব্যবধান তৃণমূলের জন্য সবসময়ই উদ্বেগের কারণ ছিল। এছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধনীর মাধ্যমে প্রায় ৯০ লাখ ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টিও এই লড়াইকে আরও হাড্ডাহাড্ডি করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তাদের তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলেও, এ বছরের নির্বাচনের আগে তারা প্রতিটি বুথে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক