থালাপতি বিজয় ও রাহুল গান্ধীর নতুন সম্পর্কের নেপথ্যে
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখরের (থালাপতি বিজয়) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিজয় ও রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। ২০০৯ সালে বিজয় কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। যে দলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, সেই কংগ্রেসই এখন বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ছোট অংশীদার। খবর এনডিটিভির।
জানা গেছে, নতুন জোটের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিজয় বলেন, কঠিন সময়ে যখন অনেকেই তার ওপর আস্থা রাখেননি, তখন কংগ্রেসের একটি অংশ তাকে বিশ্বাস করেছিল। বিশেষ করে রাহুল গান্ধী ও প্রবীণ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের জন্য কংগ্রেস একটি স্বাভাবিক মিত্র। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় রাহুল গান্ধীর কাছেও বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া দক্ষিণ ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তির একটি নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে বিজয়কে দেখছেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ মহলের ধারণা, দক্ষিণের অনেক আঞ্চলিক নেতার তুলনায় বিজয়ের ওপর তার আস্থা বেশি।
বিজয়ের নির্বাচনি জয়ের পর থেকে অন্তত তিনবার তাদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার গঠনের লক্ষ্যে কংগ্রেস ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর জোট চূড়ান্ত হওয়ার দিন বিজয় ফোন করে রাহুল গান্ধীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন এবং শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান।
সূত্র বলছে, রাহুল গান্ধী তখন তাকে জানান যে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। পরে তিনি চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও বিজয়ের প্রতি সমর্থনে ধারাবাহিক ছিলেন রাহুল গান্ধী। এমনকি তৎকালীন মিত্র দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে)-এর কিছু সভায়ও তিনি অংশ নেননি বলে জানা গেছে।
বর্তমানে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট কার্যত ভেঙে গেছে। তবে কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরমসহ কয়েকজন নেতা আশা প্রকাশ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ে দুই দল একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক