অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করা, আটক করা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল বুধবার (২০ মে) রাজ্যের প্রশাসনিক সদরদপ্তর নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু এই ঘোষণা দেন। মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। খবর দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গত বছরের ১৪ মে এক আদেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আজ থেকেই এই আদেশ কার্যকর করছি। পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’।
আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাকিস্তানের কাছে হারল ভারত
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ এখন থেকে অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপর বিএসএফ তাদের বিতাড়নের বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে ঢাকা বরাবরই স্পষ্ট জানিয়ে আসছে, কেবল নথিপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত বাংলাদেশি নাগরিকদেরই তারা ফেরত নেবে।
কারা ছাড় পাবেন?
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ (সিএএ) এর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করার যোগ্য, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম অভিবাসীরা (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান) নাগরিকত্ব পাবেন। তবে মুসলিমরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকায় মূলত তাদের লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হবে।
সম্প্রতি আসামে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি হিমন্তকে তার ‘বড় ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আসামের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোই পশ্চিমবঙ্গে অনুসরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের আদেশের পর গত বছর থেকেই আসাম পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকশ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সীমান্তের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফের সীমান্ত চৌকি (বিওপি) ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির জন্যও জমি দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর তথ্যমতে, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া হবে। আগের সরকার তাদের ভোটব্যাংক রক্ষা করতে এবং একটি বিশেষ শ্রেণিকে তুষ্ট করতে, ৫৫৫ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অনুপ্রবেশের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন ও দেশবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে এই অবৈধ অভিবাসীদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক