কমল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতে স্থানীয় সময় রোববার (২৪ মে) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।
বিশ্ববাজারে তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ফিউচারস ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। এক মাস আগের তুলনায় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমলেও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখনও তা এক-তৃতীয়াংশের বেশি উঁচুতে রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ রোববার সকালের লেনদেনে ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ‘গঠনমূলক ও সুশৃঙ্খলভাবে’ এগোচ্ছে। তবে তিনি কর্মকর্তাদের দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প লেখেন, উভয় পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে কোনো ভুলের সুযোগ নেই।
এর আগে শনিবার (২৩ মে) ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি ‘মূলত সম্পন্ন’ হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজার এখনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল আবার বাজারে প্রবাহিত হবে- এমন প্রত্যাশাই দাম কমার বড় কারণ।
জুন গোহ আরও বলেন, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। উৎপাদন ও পরিশোধন কার্যক্রম আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে সময় প্রয়োজন হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর ফলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়। পরে এপ্রিলের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে আরও চাপ সৃষ্টি করে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক