বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। বিশ্বের প্রধান জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল মধ্যপ্রচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৯১.১৫ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার ১৮০ টাকা) দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭০ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৬.৪৬ ডলারে (প্রায় ১০ হাজার ৬০৫ টাকা) বিক্রি হচ্ছে।
এর আগের সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা গত ২৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে ২১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন : বিশ্রাম নিতে পাতায়া যাচ্ছেন ৫ হাজার মার্কিন সেনা, যৌনকর্মীদের সতর্ক করল থাইল্যান্ড
আরও পড়ুন : মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলা চালানোর হুমকি দেন। এক মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, চলমান এই ঘটনার কারণে ইরানের দিক থেকে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কা আবার জোরালো হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মূলত এই দুটি বড় ঝুঁকির প্রভাবই তেলের বাজারে সরাসরি দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন : পাকিস্তানের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি মানতে হবে ভারতকে : আন্তর্জাতিক আদালত
শিপিং ডাটা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন দৈনিক গড়ে মাত্র ৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করছে, যা ১০ দিনের সাধারণ গড় (১৪টি) থেকে অনেক কম। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী তেলের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় প্রণালিটি চালুর চেষ্টা করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অ্যানজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হলেও তা সংঘাতপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক কম। এদিকে বাজারে তেলের ঘাটতি মেটাতে ব্যবহৃত মার্কিন কৌশলগত মজুতও নিম্নমুখী হয়ে এসেছে। ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে যাতায়াত ও জ্বালানির চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০২৬ সালজুড়েই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের ওপরেই অবস্থান করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক