যুদ্ধবিরতির ‘চরম লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে মার্কিন হামলার নিন্দা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলাকে যুদ্ধবিরতির ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার ‘পরিণতির জন্য’ ওয়াশিংটনকে দায় নিতে হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল ‘অন্যায়, আগ্রাসী ও উসকানিমূলক’। অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই রয়েছে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। খবর বিবিসির।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাবহীন রাখবে না এবং দেশের জনগণকে রক্ষায় দ্বিধা করবে না।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার নৌযান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের কাছাকাছি এলাকা। শহরটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত প্রবেশমুখে অবস্থিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমানের দিকে গুলি ছুড়েছে।
এ হামলার ফলে চলমান শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও নতুন এই হামলা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ‘আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে’।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সপ্তাহের শেষে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করলেও পরে আলোচকদের ‘তাড়াহুড়া না করতে’ নির্দেশ দিয়েছেন।
আলোচনায় সম্ভাব্য যে সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে বড় বাধাগুলোর একটি হলো বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের দাবি। কাতারে চলমান আলোচনায় ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানে মূলত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে আলোচনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। যদিও তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক