বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড (মুনাফা) কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপরীতমুখী ও বিভ্রান্তিকর খবরের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন, যা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টা ৫৬ মিমিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (স্বর্ণ) দাম শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১৭ দশমিক ৭৩ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ফিউচার মার্কেটেও আগামী আগস্ট ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৭ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্সের।
আরও পড়ুন : নেতানিয়াহুকে অকথ্য ভাষায় ‘গালাগাল’ করলেন ট্রাম্প
স্বর্ণের বাজার বিশ্লেষণ করে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান জানান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কারণে আমরা স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি নোটের ইল্ড বা মুনাফা কমে যাওয়াও স্বর্ণের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। বন্ডের মুনাফা কমে গেলে সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ নিজের কাছে রাখার খরচ কমে যায়, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।
উল্লেখ্য, হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করা এই সংঘাত কিছুটা প্রশমিত করতে সোমবার (১ জুন) হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় লেবানন।
আরও পড়ুন : লকারের ৩২ হাজার টন স্বর্ণ বাজারে আনতে চান মোদি, কী লাভ ভারতের?
স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার গোপন আলোচনার দিকে। তবে এই আলোচনা নিয়ে দুই পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী তথ্য আসছে। একদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি সমাপ্ত ঘোষণা করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে তাদের শান্তি আলোচনা ‘দ্রুত গতিতে’ এগিয়ে চলেছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।
‘টেস্টিলাইভ’-এর গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলা স্পিভাক স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দামের পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, আপাতত স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো ৪ হাজার ৯০০ ডলারের ঘর। স্বর্ণ যদি সফলভাবে ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে, তবে আমরা বুঝব যে স্বর্ণ আবারও তার দীর্ঘমেয়াদি শক্তিশালী ধারায় ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন : নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তরুণ পাইলটের মৃত্যু
বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ ও মার্কিন শ্রমবাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিতব্য মার্কিন ‘নন-ফার্ম পেরোল’এবং কর্মসংস্থান রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতি বুঝতে ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক ও ফেড গভর্নর মাইকেল বারের আসন্ন বক্তব্যের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আজ বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৫৮ দশমিক ৬৭ ডলার ও প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩৮২ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আজ সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুস জানায়, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক