ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করলেন মার্কিন বিচারক
একজন মার্কিন ফেডারেল বিচারক আজ শুক্রবার (৫ জুন) এক রায়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ৩৯টি দেশের আবেদনকারীদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করেছে।
রোড আইল্যান্ড প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এই রায়ে আরও বলেছেন, আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের মানুষকে লক্ষ্য করে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) একগুচ্ছ বেআইনি নীতি গ্রহণ করেছিল। খবর সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের।
অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোটের পক্ষ থেকে গত মার্চ মাসে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের এই রায় এলো। মামলাটিতে গত নভেম্বর থেকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অংশ ইউএসসিআইএস কর্তৃক গৃহীত একগুচ্ছ নীতিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
ওই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৩৯টি দেশের মানুষের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া স্থগিত করে রাখা হয়েছিল, যা ট্রাম্প মূলত যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তিযুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। উল্লেখ্য. গ্রিন কার্ড দেশটিতে বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা প্রদান করে।
এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এই নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে এক অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল।
বিচারক তাঁর রায়ে লিখেছেন, ইউএসসিআইএস-এর এই আবেদন নিষ্পত্তি স্থগিত রাখার পেছনে এই ব্যক্তিদের কোনো ভুল বা অন্যায়কে দায়ী করা যায় না; বরং এটি কেবলই তাদের জন্মগত পরিস্থিতির কারণে ঘটেছে।
বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা কংগ্রেসের প্রণীত এবং ইউএসসিআইএস-এর বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়াগুলো মেনে চলেছিলেন, তা সত্ত্বেও তারা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরে এমন সব সুবিধার আবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন যা ইউএসসিআইএস নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
বিচারক ম্যাককনেল লিখেছেন, কিন্তু আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে এবং এখানে যেমনটা স্পষ্ট, ইউএসসিআইএস আইন মেনে চলেনি কিংবা সঠিক উপায়ে কাজ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, সংস্থাটি সেই অভিবাসন আইনগুলোই লঙ্ঘন করেছে যা পরিচালনার দায়িত্ব কংগ্রেস তাদের ওপর অর্পণ করেছে, পাশাপাশি সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রশাসনিক আইনগুলোও তারা লঙ্ঘন করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক