কীভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক?
বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লাখো কোটিপতি হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন প্রযুক্তি খাতের আলোচিত ও প্রভাবশালী মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার মালিকানাধীন রকেট, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’ মার্কিন পুঁজিবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার পর এই ইতিহাস সৃষ্টি হলো। খবর রয়টার্সের।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্পেসএক্সের আইপিও থেকে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহের করে। এরপর গতকাল শুক্রবার (১২ জনু) থেকে ওয়াল স্ট্রিটে এর শেয়ার লেনদেন শুরু হয়, যা মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রয়টার্সের হিসাব ও প্রাতিষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আইপিওর আগে ফোর্বসের তালিকায় মাস্কের সম্পদ ছিল প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার, যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যালফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের চেয়ে অনেক বেশি।
ফোর্বস ওয়েলথের ডেপুটি এডিটর ম্যাট ডুরোট জানান, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তি যেখানে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ব্যক্তি (ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন) ৪০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন। সেখানে মাস্ক একাই ১ ট্রিলিয়নের গণ্ডি পেরিয়ে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের সিংহভাগই আসছে স্পেসএক্স থেকে, যেখানে তার শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, যাকে তারা ‘মাস্কোনমি’ বলে ডাকছেন। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ প্রথাগত আর্থিক মূল্যায়ন পদ্ধতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুধুমাত্র মাস্কের দূরদর্শী ভাবনার ওপর বাজি ধরছেন। রেনেসাঁ ক্যাপিটালের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যাট কেনেডি এই প্রবণতাকে ‘ইলন প্রিমিয়াম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মূলত মাস্কের হাত ধরে মহাকাশ ও এআই প্রযুক্তিতে অভাবনীয় বিপ্লব আসবে—বিনিয়োগকারীদের এমন অন্ধ বিশ্বাসের কারণেই স্পেসএক্সের বাজার মূল্য ১.৫ থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
বিশ্বের এক নম্বর ধনী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মাস্কের খোলামেলা ও অনমনীয় জীবনযাপন তাকে নানা বিতর্কের কেন্দ্রেও রেখেছে। সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে ‘অলিগার্ক’ বা একনায়কসুলভ ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ এনেছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘টুইটার’ (বর্তমানে এক্স) কিনে নেওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতি, অভিবাসন ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে তার প্রকাশ্য অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
বিগত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই) উদ্যোগে যুক্ত হয়ে মাস্ক সরাসরি মার্কিন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। যা বিশ্ববাজারে তার টেসলা গাড়ির বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গ্রাহকদের বয়কটের মুখে পড়তে হয়।
পরবর্তীতে নীতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হলেও বিনিয়োগকারীরা মাস্কের ব্যবসায়িক ট্র্যাক রেকর্ডের ওপরই আস্থা রাখছেন। জেপিমরগান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন সম্প্রতি ইলন মাস্কের প্রশংসা করে তাকে ‘আমাদের সময়ের টমাস এডিসন’ ও ‘আমাদের আইনস্টাইন’ বলে অভিহিত করেছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক