লিভ-ইন সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় বাবা-মা ও বোনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
লিভ-ইন সম্পর্ক (বিয়ে ছাড়া একত্রে বসবাস) পরিবার মেনে না নেওয়ায় ক্ষোভে নিজের বাবা, মা ও ছোট বোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর কেআর পুরম থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের ওই তিন সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবর এনডিটিভির।
নিহতরা হলেন- সোমসুন্দর (৫৫), তার স্ত্রী মুথুলক্ষ্মী (৪৮) এবং তাদের ছোট মেয়ে সুপ্রিয়া (২০)। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দম্পতির বড় মেয়ে শ্বেতা এবং তার লিভ-ইন পার্টনার কেনেথকে অভিযুক্ত করেছে। ঘটনার পর থেকেই এই প্রেমিক যুগল পলাতক রয়েছে।
আরও পড়ুন : বেলুন বিক্রেতা শিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর খুন
পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুর সিগেহাল্লির ‘সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে’ এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বড় মেয়ে শ্বেতার সঙ্গে কেনেথের প্রেমের সম্পর্ক এবং একসঙ্গে থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তার মা-বাবা। এর পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তির আরেকটি বড় কারণ ছিল শ্বেতার নামে থাকা প্রায় ৩০ লাখ রুপির বিশাল ঋণ। এই ঋণের টাকা নিয়ে মা-বাবা প্রায়ই শ্বেতাকে চাপ দিতেন, যা নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া লেগেই থাকত। প্রেম ও ঋণের এই দ্বিমুখী বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের মতে, গত সোমবার শ্বেতা ও কেনেথ যখন ওই ফ্ল্যাটে যান, তখন বাড়িতে কেবল মা মুথুলক্ষ্মী একাই ছিলেন। বাবা ও ছোট বোন তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বেতা ও কেনেথ মিলে মুথুলক্ষ্মীকে একটি দা-সদৃশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর তারা বাথরুমে রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলে অপেক্ষা করতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর ছোট বোন সুপ্রিয়া বাড়িতে ঢুকলে শ্বেতা তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন এবং কেনেথ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে খুন করেন। সবশেষে বাবা সোমসুন্দর বাড়িতে ফিরলে তার ওপরও একইভাবে চড়াও হয় ঘাতকেরা। গুরুতর আহত অবস্থায় সোমসুন্দর কোনোমতে ঘর থেকে বেরিয়ে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
কেআর পুরম থানার পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পলাতক শ্বেতা ও কেনেথকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক