ইউক্রেনের আরও একটি শহর দখলের দাবি রাশিয়ার
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এলাকাটি দোনবাস অঞ্চলের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান, যা এখনও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ বড় শহরগুলোর দিকে যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই শহরটি দখলের জন্য ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ শুরুর আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৮ হাজার। বর্তমানে এটি রাশিয়ার প্রধান সামরিক অগ্রাধিকারের একটি হয়ে উঠেছে, কারণ পুরো সংঘর্ষের ফ্রন্টলাইনটি এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। খবর এএফপির।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এএফপির সাংবাদিকদের বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকা সম্পূর্ণভাবে দখল করা হয়েছে। শহরটি এখন পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।
পেসকভ জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
টেলিভিশনে সামরিক পোশাকে জেনারেল স্টাফের সামনে উপস্থিত হয়ে পুতিন রুশ সেনাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকা দখল ‘কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ফ্রন্টে কৌশলগত উদ্যোগ দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে।
রুশ কমান্ডার আন্তন গ্রুনিস জানান, সেনারা বর্তমানে ‘ইউক্রেনীয় সেনাদের বিচ্ছিন্ন সদস্যদের শনাক্ত ও নির্মূল করার অভিযান’ চালাচ্ছে, যারা ভবন, বেসমেন্ট ও ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে আছে।
কস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ দিকের শক্ত ঘাঁটিগুলোর একটি, যা কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে অবস্থিত। এই শহর দখল করা মস্কোর চূড়ান্ত লক্ষ্যগুলোর একটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেসকভ আরও বলেন, পুতিন একটি রুশ সেনা কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে জেনারেল স্টাফের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে শুনেছেন এবং সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পেসকভ দাবি করেন, রুশ বাহিনী এখন পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি দোনবাসের দুটি প্রধান অঞ্চলের একটি।
রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, রুশ বাহিনী বর্তমানে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বড় শহর জাপোরিঝঝিয়ার মাত্র নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যুদ্ধের আগে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ।
আরেকজন কমান্ডার জানান, তার বাহিনী উত্তরাঞ্চলের সুমি অঞ্চলের রাজধানী শহর সুমির প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যুদ্ধের আগে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই লাখ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)