বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পতন অব্যাহত রয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা ও মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার কারণে বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এই বড় ধস নেমেছে। খবর রয়টার্সের।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে এসেছে। যা গত ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার প্রাইস ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
টাকায় আউন্স ও ভরি হিসাব
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের ওজন নির্ধারণ করা হয় ৩১ দশমিক ১০৩ গ্রাম হিসেবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের হিসাব করা হয় ‘ভরি’ (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) হিসেবে। সেই হিসেবে ১ আউন্স সমান প্রায় ২ দশমিক ৬৬ ভরি।
বর্তমান ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার সমান প্রায় ১২৩ টাকা)। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট অনুযায়ী হিসাব করলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ লাখ ১ হাজার টাকার কাছাকাছি। অন্যদিকে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম (আন্তর্জাতিক বাজার দর) প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ টাকা।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা সোনা বা গোল্ড বারের এই হিসাবের সঙ্গে ভ্যাট, ট্যাক্স, আমদানি শুল্ক ও জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্থানীয় বিপণন খরচ যুক্ত হয়ে দেশের বাজারে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘অনির্দিষ্টকাল’ ধরে পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি অনতিবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, চলমান শান্তি আলোচনায় তারা এমন কোনো ছাড় দেয়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানি তহবিল ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘টেস্টিলাইভের’ প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা। মূল্যস্ফীতির কারণে সুদের হার বৃদ্ধির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাতে বন্ডের দাম কমছে, ইল্ড (মুনাফা) বাড়ছে, ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবেই স্বর্ণের দাম কমছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধজনিত কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়ায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে- এমন পূর্বাভাসই স্বর্ণের দাম কমার মূল কারণ। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ মনে করা হলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে স্বর্ণ তার আকর্ষণ হারায়। কারণ এটি থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা আসে না।
বর্তমানে ডলারের সূচক গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর অন্তত তিনবার সুদের হার বাড়াতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশ হতে যাওয়া মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২২৭ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক