সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বর্ণের দামে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও তার ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফিড) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে— এমন ধারণায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে সুদের হারবিহীন এই মূল্যবান ধাতুর দাম কমছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সোমবার (২৯ জুন) স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৪৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে।
গত শুক্রবারও স্বর্ণের সাপ্তাহিক দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল এবং টানা চার মাস ধরে ধাতুটির দাম প্রায় ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হলেও উচ্চ সুদের হারের বাজারে এর আকর্ষণ কমে যায়। কারণ স্বর্ণ ধরে রাখলে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ আরও তিনবার সুদের হার বাড়াতে পারে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ।
রোববার (২৮ জুন) ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের হুমকির পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। তবে পরবর্তীতে দুই দেশই হামলা বন্ধ করতে ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভাঞ্জেলিস্টা জানান, শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় স্বর্ণের দাম চাপে রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশ হবে, যা ভালো এলে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি স্পট রুপার দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে এক হাজার ৫৯৫ দশমিক ৫১ ডলার হয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে এক ২৩১ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক