বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেওয়ায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০৩.২৩ ডলারে নেমে আসে। এই পতনের ফলে চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৭ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দামও প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৩.৭০ ডলারে থিতু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ৩১.১০৩ গ্রামে এক আউন্স বা ১ ট্রয় আউন্স হিসাব করা হয়। এদিকে এক ভরিতে ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান মূল্য অনুযায়ী প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ১৩১.৯২ ডলার। সেই হিসাবে প্রতি ভরির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য পড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৩৮.৭ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কনভার্ট করলে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৪ টাকা।
উল্লেখ্য, এটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঁচা স্বর্ণের দর। এর সঙ্গে স্থানীয় শুল্ক, ভ্যাট এবং জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত মেকিং চার্জ যুক্ত হয়ে দেশের বাজারে খুচরা মূল্য চূড়ান্ত হয়।
টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, এখানে মূল কারণটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনা। এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ও রুপার মতো ধাতুগুলো নিজেদের কাছে রাখতে চাচ্ছেন না, যার ফলেই বাজারদর ৪১০০ ডলারের ঘরের দিকে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে আগামী বছরের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উদ্বৃত্ত থাকার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। দুই পক্ষের একের পর এক পাল্টা হামলার কারণে সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম সাপ্তাহিক বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বা হেজ হিসেবে গণ্য করা হলেও, সুদের হার উচ্চ থাকলে অ-লভ্যাংশকারী সম্পদ হওয়ায় এটি তার আকর্ষণ হারায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদযুক্ত বন্ড বা অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াতে বেশি আগ্রহী হন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলস অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৬৯ শতাংশ ধরে হিসাব কষছেন।
চলতি সপ্তাহে ভারতের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরণের ডিসকাউন্ট বা ছাড় দেখা গেছে। অন্যদিকে চীনের বাজারে ধাতুটির চাহিদা বেশ স্থিতিশীল ছিল, বিশেষ করে গত জুন মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ আড়াই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক রিজার্ভ বাড়ানোর রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরবর্তী মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা বুঝতে আগামী সপ্তাহের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের সাক্ষ্যের দিকে নজর রাখছেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ উঠানামা দেখা গেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৯.৫৬ ডলারে নেমে এসেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬১৬.৭২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭৪.৫০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক