রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৫, আহত ২০
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ বাহিনীর হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া। এদিকে, ইউক্রেনের অভিযোগ, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধকে আরও জোরদার করতে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা নিচ্ছে।
জাপোরিঝঝিয়ার আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। জাপোরিঝঝিয়ায় শত্রুর হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কিয়েভে এএফপির সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ আগে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজধানীতে ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।
শহরের শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায় জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কিছুক্ষণ আগেই কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
এদিকে, জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ বাহিনী শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানান ফেদোরভ। তিনি বলেন, ‘রুশ বাহিনী শিল্প স্থাপনা ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। একটি গ্যারেজ কমপ্লেক্স এবং আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে রাশিয়া নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা বাড়িয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই সীমিত। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্যতম।
এদিকে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী মিসাইলের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।’
অন্যদিকে, ইউক্রেনও সীমান্ত থেকে অনেক দূরের রুশ শহরগুলোতে হামলা চালানোর মাত্রা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)