নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ ১৩ শতাধিক
নেপাল ও চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় ১৩ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ভেসে গেছে একের পর এক গ্রাম, গাড়ি ও একাধিক দূরপাল্লার বাস।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সীমান্ত এলাকায় সাঁড়াশি উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে উভয় দেশের উদ্ধারকারী দল। খবর এএফপির।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতগামী জনপ্রিয় পর্যটন পথটির ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভয়াল কাদা ও পানির ঢল ১৭০ কিলোমিটার এলাকা তছনছ করে দিয়েছে। কেবল নেপালেই অন্তত ১৬২টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ ৮২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে সীমান্তে তিব্বতের জাইরোং বন্দরে ৩ জনের মৃত্যু ও ২৫৮ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের একটি বিশাল বাঁধ বহুতল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ছে। মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৯টি দেশের নাগরিক রয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) নতুন তথ্যে নিশ্চিত করেছে, কোনো ভূমিকম্প নয়। বড় হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে সৃষ্ট কম্পন থেকে এই জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের গলতে থাকা হিমবাহগুলো এমন বিপর্যয় ডেকে আনছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (আইএফআরসি) জরুরি খাদ্য, তাবু ও ওষুধ পাঠাতে শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পাহাড়ি গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডি সতর্ক করে জানিয়েছে, নদীতে নতুন করে পলি ও ধ্বংসাবশেষ জমে বাঁধ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আবার বন্যা হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক