বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
বিশ্বজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই দরপতন হয়। এতে এক দিনেই স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ইডিটি সময় বেলা ১টা ৪৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স ট্রয় স্বর্ণের দাম ২.৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৬৭.২৩ ডলারে নেমে আসে। এটি গত ২০ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ভবিষ্যৎ চুক্তি বা ফিউচার প্রাইস ২.৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫২৯.৯ ডলারে থিতু হয়।
গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৯৬.১৮ ডলারে উঠে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে শুক্রবারের এই পতনের পর চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ২.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
স্বতন্ত্র বাজার বিশ্লেষক টাই ওয়াং জানান, ফেড চেয়ারম্যান মূল্যস্ফীতি কমছে না বলে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক কাজ বাকি বলে জানান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছে। ফেড প্রধান কেভিন ওয়ারশ উল্লেখ করেন, মূল মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশে নেমে আসার বিষয়ে সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নীতি নির্ধারকরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। এই মন্তব্যের পর বাজারে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারশের বক্তব্যের পর সেপ্টেম্বরের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৫৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা এই বক্তব্যের আগে ছিল ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণ নিয়মে সুদের হার বাড়লে কোনো নির্দিষ্ট লভ্যাংশ না দেওয়া ধাতু হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যায়।
এর পাশাপাশি মার্কিন ডলারের সূচক এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়। ফলে অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে বেচাকেনা হওয়া স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ৩.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬.৮১ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৫.০৭ ডলারে। তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪২২.২৫ ডলারে উঠেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক