লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢোকা ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো
লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদা এ তথ্য জানিয়েছেন।
লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে ড্রোনটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে থাকতে পারে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের কাছাকাছি এলাকায় ড্রোনটি ঢোকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নাউসেদা লিখেছেন, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
তবে ড্রোনটির উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে লিথুয়ানিয়ার ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার।
ড্রোন প্রবেশের আশঙ্কায় মঙ্গলবার ভোরে রাজধানী ভিলনিয়াস ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। তাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়।
লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং ন্যাটোর এয়ার ডিফেন্স মিশনে দায়িত্ব পালনরত ইতালীয় পাইলটরা দ্রুত ও দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।
নাউসেদা বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বাড়তে থাকায় এ ধরনের প্রস্তুতি পুরো অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লিথুয়ানিয়া নিজেদের আকাশসীমা রক্ষা করবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনা নিয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিথুয়ানিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় একটি অংশের সীমান্ত বেলারুশের সঙ্গে। বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
রোববারও (১৩ সেপ্টেম্বর) লিথুয়ানিয়ায় একটি ড্রোন দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে দেশটির সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, বস্তুটি সম্ভবত বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করে দেশটির আকাশসীমা অতিক্রম করে রাশিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে যায়। তবে ওই ঘটনায় কোনো বিমান হামলা সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামরিক ড্রোনের অনিচ্ছাকৃত প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতেও পোল্যান্ড জানিয়েছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ জেটচালিত ড্রোনের হামলার কারণে তাদের আকাশসীমায় বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ ছিল প্রতিরোধমূলক এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
এর আগে মে মাসেও রাজধানী ভিলনিয়াসে ড্রোন সতর্কতা জারি হলে বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল। সে সময় কিছু সময়ের জন্য বিমান ও রেল চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছর এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করতে একাধিকবার ন্যাটোর যুদ্ধবিমান আকাশে উড়েছে। ইউক্রেন এসব ঘটনার জন্য রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনীয় ড্রোনের গতিপথ পরিবর্তন করা হতে পারে।
লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটোতে যোগ দেয়। জোটের আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক