সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনায় স্বর্ণের দামে পতন
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরে নীতিগত কঠোরতা আরও বাড়াতে পারে- এমন পূর্বাভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়াও স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্সের।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৬১ দশমিক ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মুদ্রানীতি নিয়ে বাজারে এখনও উদ্বেগ রয়েছে, যা ডলারের সূচককে উঁচুতে ধরে রেখেছে। আর এসব বিষয়ই স্বর্ণ ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে মার্কিন সুদের হার আরও এক দফা বাড়ার সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ বলে মনে করছেন। সাধারণ নিয়মে স্বর্ণ মূল্যস্ফীতির বিপক্ষে একটি সুরক্ষিত বিনিয়োগ (হেজ) হিসেবে বিবেচিত হলেও, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে বন্ডের মতো সুদ-প্রদানকারী খাতের আকর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।
তবে টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বল্পমেয়াদি এই দরপতন খুব বেশি স্থায়ী বা বড় হবে না, বরং এটিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনার একটি ভালো সুযোগ হিসেবে দেখা হতে পারে।
এদিকে অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রূপার দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৫২ ডলার, প্ল্যাটিনাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮২৬ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩২৫ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক