কখনোই নতজানু হবে না ইরান : পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘে দেওয়া তার ভাষণে কড়া ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রথম তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য দিলেন এবং সেখানে প্রতিজ্ঞা করে বললেন, তেহরান কখনোই নতজানু হয়ে মাথা নত করবে না। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ভাষণে মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য ওয়াশিংটনকে ‘সন্ত্রাসবাদের’ দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি প্রয়াত নেতার একটি ছবি উঁচিয়ে ধরে ভাষণ দেওয়ার সময় জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কখনোই কোনো ‘যুদ্ধের সূচনা’ করেনি।
এর আগে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, তিনি ইরানকে ‘নির্মূল’ করবেন কি না তা বিবেচনা করছেন, তবে পরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনার প্রশংসাও করেন।
মাসুদ পেজেশকিয়ান অবশ্য তার দৃঢ়তাপূর্ণ ভাষণে থমকে থাকা যুদ্ধ সমাধানের লক্ষ্যে চলা সেই আলোচনার কোনো উল্লেখ করেননি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘(ট্রাম্পের) জেনে রাখা উচিত নিষেধাজ্ঞা, ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ কেবল বৃদ্ধিই পাবে। আমরা কখনোই আমাদের মাথা নত করব না বা হাঁটু মুড়ে বসে পড়ব না।’
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে তার দেশের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
যুদ্ধের সূচনা থেকেই ইরান এই প্রণালিটি প্রায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছ। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘একদল লোক অবাধ যাতায়াত পাবে এবং নৌপথটি থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে, অথচ একই সঙ্গে সেই নৌপথ ব্যবহার করেই আমাদের ওপর আগ্রাসন চালাবে—এমনটি আমরা হতে দিতে পারি না।’
ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত জাতিসংঘের এই শীর্ষ কূটনৈতিক সম্মেলনে পেজেশকিয়ানের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেবে কি না তা স্পষ্ট ছিল না। শেষপর্যন্ত ওয়াশিংটন তাকে ভ্রমণের অনুমতি দিলেও, পেজেশকিয়ানের সফরসঙ্গী দলের বেশ কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক