গোলান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সিরীয় ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিরিয়ায় একটি ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধের পর দেশটির নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড। তিনি অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান। খবর আল-জাজিরার।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা।
আহমেদ আল-শারা বলেন, আমরা ইসরায়েলের একটি ‘অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতি’ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করি। আমরা তাদের আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান করি, যা শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল সিরিয়ায় ৫০০টি বিমান হামলা, ১ হাজার ২০০ বারেরও বেশি অনুপ্রবেশ এবং ৩০০ জনকে আটকের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।
‘এসব ঘটনা এমন এক যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আমরা ভেবেছিলাম অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে’, যোগ করেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা।
সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আল-নুসরা ফ্রন্টের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক যোদ্ধা আল-শারা ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ক্ষমতায় আসেন।
পুনরুদ্ধারের যাত্রা
বিধ্বস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রেসিডেন্ট আল-শারা জাতিসংঘকে জানান, সিরিয়া ‘সংকট থেকে সম্ভাবনার পথে’ উঠে এসেছে।
‘রক্তপাত বন্ধ হয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ থেমেছে। সিরিয়া পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু করেছে’, বলেন আল-শারা। এ সময় তিনি অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করেন।
প্রায় ১০ মিনিটের ভাষণে আল-শারা প্রায় ৩৫ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন।
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং কিছু পশ্চিমা দেশে অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ উসকে দিয়েছিল।
গত বছরের পর এটি ছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার দ্বিতীয় ভাষণ।
দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে থাকার পর নতুন নেতৃত্বের অধীনে সিরিয়া এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক সমর্থন লাভের চেষ্টা করছে। অথচ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েল সিরিয়ার সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।
আল-শারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ১৯৭৪ সালের সেই চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি পৃথকীকরণ অঞ্চল তৈরি করা হয়েছিল। তিনি অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। গত জুলাই মাসে ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো জাতিসংঘ প্রধানের দামেস্ক সফরের সময় মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পুনর্ব্যক্ত করেন, এলাকাটি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং তিনি ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।
গত মাসে কলম্বিয়া ওই এলাকার ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে আল-শারা জোর দিয়ে বলেন, কৌশলগত ও জলসম্পদে সমৃদ্ধ এই এলাকাটি সিরিয়ার ভূখণ্ডই থাকবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক