‘মক্কা প্যাক্ট ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর চুক্তিতে পরিণত হতে পারে’
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি (মক্কা প্যাক্ট) ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ। এতে ইরানও যোগ দিতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী মাসে তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মুসলিম বিশ্বের জন্য’ একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পরিণত হতে পারে, যেখানে ইরানও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের স্পিকার আরও জানান, আগামী মাসে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে তোলার কথা রয়েছে।
আগস্টে আঞ্চলিক শক্তিগুলো ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এর কয়েক সপ্তাহ পরই ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ওপর হামলা শুরু করে। এর আগে শুরু হওয়া বৃহত্তর ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব হামলা চালায়। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক মিত্রের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। চুক্তির কাঠামো নির্ধারণ এবং সৌদি আরবের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়নে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারা বৈঠক করে আসছেন।
আঙ্কারায় সাংবাদিকদের তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে চুক্তির আওতায় যে বৈঠকগুলো হচ্ছে, সেগুলো প্রস্তুতিমূলক বৈঠক।’ পার্লামেন্টের অবকাশ শেষে অক্টোবরে অধিবেশন শুরু হলে বিষয়টি পার্লামেন্টের আলোচ্যসূচিতে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চুক্তিটি ইরানের বিরুদ্ধে কি না, জানতে চাইলে কুরতুলমুশ তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং আঞ্চলিক সংঘাত এবং ইসরায়েলের ‘বৈরী নীতির’ মধ্যে এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ইরানও ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, ‘আমরা কখনোই মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি হিসেবে দেখি না, এমনটি হওয়াও উচিত নয়। বরং আমরা আশা করি, মক্কা চুক্তি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পরিণত হবে। ইরানও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। আমরা আশা করি, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ অংশ নিলে এটি আরও শক্তিশালী হবে।’
এর আগে আঙ্কারা জানিয়েছিল, প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে, বিশেষ করে কারিগরি ক্ষেত্রে, তারা সহায়তা করতে পারে। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, যৌথ চুক্তিটি এখনো অনুমোদিত না হওয়ায় এই পর্যায়ে যেকোনো সহায়তা মূলত দ্বিপক্ষীয় হবে এবং দুই দেশের জোটের চেতনার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।
সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক