পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনা, বিমান হামলায় নিহত ৪
এক সময়ের মিত্র থেকে প্রতিপক্ষে রূপ নেওয়া দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে ফের বেড়েছে উত্তেজনা। ড্রোন হামলার অভিযোগে আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এই হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কাবুল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাকিস্তান ও তালেবান প্রশাসনের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের দিকে ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করে দেয়। এর জবাবে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের চিহ্নিত ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘সুনির্দিষ্ট বিমান ও ড্রোন হামলা‘ পরিচালনা করা হয়। আফগান তালেবান সরকার ভবিষ্যতে কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিলে তার কড়া ও দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী।
তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানে ড্রোন হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আগ্রাসী হামলা চালায়। এতে চারজন সাধারণ মানুষ নিহত হন।
পাকিস্তানের এই হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও শত্রুতাপূর্ণ‘ আখ্যা দিয়ে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিবৃতিতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, এমন কর্মকাণ্ড আফগান জনগণকে ক্ষুব্ধ করবে। যা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যন্ত মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তালেবান সরকার আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান ও অন্যান্য ইসলামপন্থি জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, যারা সেখান থেকে সীমান্তে হামলা চালায়। তবে তালেবান এ অভিযোগ নাকচ করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের পুলিশ কার্যালয়ে শক্তিশালী হামলায় ২৪ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে প্রায় তিন মাস ধরে বজায় থাকা আপেক্ষিক শান্ত পরিবেশ ভেঙে পড়ে। নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ২৮ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয় বলে দাবি করে ইসলামাবাদ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক