বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। মূলত মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়া এবং জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক সুদের হার কী করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও স্বর্ণের বাজার বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্সের।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়েছে। এতে দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৯০.৫৭ মার্কিন ডলারে। অথচ গত বুধবারই স্বর্ণের দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে সপ্তাহের শেষ দিনে এসে দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ৪,২১৫.৩০ ডলারে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, সম্প্রতি মার্কিন ডলারের অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী গতি কিছুটা থমকে দাঁড়ানোয় অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলার-মূল্যায়িত মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার সংকেত দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে সাময়িক স্বস্তি দেখা দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।
ক্রিটিক্যাল মেটালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টনি সেজ জানান, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অর্থনৈতিক উপাত্তের দিকে চোখ রাখছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের অক্টোবর সেশনের মুদ্রানীতির নতুন আভাস দেবে। সুদের হারের নীতিগত পূর্বাভাস দুর্বল হলে বন্ডের মুনাফার হার কমে গিয়ে স্বর্ণের বাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়। সেন্ট লুইস ফেড প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম সম্প্রতি জানান, মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামিয়ে আনতে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণকে মূলত মূল্যস্ফীতি থেকে আর্থিক সুরক্ষার হাতিয়ার বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সুদমুক্ত এই ধাতুটি সংগ্রহের প্রবণতা সাময়িক থমকে দাঁড়ায়; কিন্তু সার্বিক বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বর্তমানে স্বর্ণের বাজার আবার চাঙ্গা রূপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য ধাতুগুলোর দরও বেশ বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০.২২ ডলারে উঠেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৭৭.৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৯.৭০ ডলারে স্থির হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক