ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও বাড়িঘর ধ্বংস, ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের তাগিদ জাতিসংঘের
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ঐতিহ্যবাহী হেব্রন নগরীতে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল যে ধরনের বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপগুলো ‘জাতিগত নিধনের’ গুরুতর বার্তা দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধানের এক বিবৃতির বরাতে আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভলকার তুর্ক জানান, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে হেব্রন থেকে ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিককে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া একের পর এক আবাসিক বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বলেন, যে ব্যাপক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। এই সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে এই পদক্ষেপগুলো আসলে ফিলিস্তিনিদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং তাদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন, একত্রিত শাস্তি বা সম্মিলিত শাস্তি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। গোটা এলাকা খালি করে ফেলা এবং পুরো একটি পাড়াকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার যেসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত জাতিগত নিধনের স্পষ্ট আশঙ্কা তৈরি করে।
বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অবিলম্বে তাদের নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ, বাড়িঘর ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির জন্য ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে ইসরায়েলের প্রতি জোর তাগিদ দেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক