৯ মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার কম্বোডিয়ার
আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে কম্বোডিয়া। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং অনলাইন স্ক্যামে জড়িত থাকার অপরাধে বিভিন্ন দেশের মোট ৫২ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর তালিকায় রয়েছে এই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশনের (জিডিআই) দেওয়া তথ্যের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খ্মার টাইমস ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মোট ৩ হাজার ১০৪টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম্বোডিয়া থেকে বিদেশি নাগরিক বহিষ্কারের এই হার প্রায় ৪০২.৫৯ শতাংশ বা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।
বহিষ্কৃত ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ সংখ্যক নাগরিক হলেন বাংলাদেশের। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময় মোট ৩ হাজার ৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীন, যেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ২২ হাজার ৯২৬ জন নাগরিককে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার ৮ হাজার ১৬৬ জন, তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনামের ৪ হাজার ৯৬ জন ও পঞ্চম স্থানে থাকা পাকিস্তানের ২ হাজার ৫২২ জন নাগরিককে ডিপোর্ট করা হয়। এছাড়া মিয়ানমার (১ হাজার ৯৫২), ভারত (১ হাজার ৩৬০), থাইল্যান্ড (১,৫৪৬), উগান্ডা (১ হাজার ১১১) ও ফিলিপাইনের (৯৪৫) অনেক নাগরিক এই তালিকায় রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে অন্তত ৩৮টি দেশের ১৮ হাজার ৩৮৯ জন নাগরিক সরাসরি প্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন কেলেঙ্কারি ও অবৈধ স্ক্যাম সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন চক্র ভুয়া চাকরির প্রলোভন দিয়ে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণদের আইটি বা ডেটা এন্ট্রি পদের কথা বলে নিয়ে গিয়ে কম্পিউটারভিত্তিক জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করত।
অভিবাসন দপ্তরের ঐতিহাসিক তথ্যে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১১৩টি দেশের মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করেছে দেশটির সরকার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ও সাইবার জালিয়াতি চক্র দূর করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের নির্দেশে কঠোর অভিযান জোরদার করা হয়।
একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাজা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ২৮৬ জন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে চীনের ১৪০ জন ও ভিয়েতনামের ৮৯ জন রয়েছেন। অপরদিকে অনলাইনের বিভিন্ন অভিযোগ ও সহায়তার আবেদনের ভিত্তিতে ১৯০টি পৃথক ঘটনা থেকে ১৩টি দেশের মোট ৪২৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে দেশটির অভিবাসন পুলিশ, যার মধ্যে চীনের ৭৬, ফিলিপাইনের ৭২, ভিয়েতনামের ৬৫, ভারতের ৬৪ ও ইন্দোনেশিয়ার ৬১ জন নাগরিক রয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক