স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি ফাঁকি ও ‘ফি’ আদায়ের অভিযোগ
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মান চরম অবনতিতে পৌঁছেছে। সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করা এবং খোদ হাসপাতাল চত্বরে বসেই রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ‘ফি’ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার (১১ মে) সকালে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বহিঃবিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিশেষ করে ‘পুষ্টি কর্নার’র উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিমকে তার আসনে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় কক্ষটি খালি পড়ে থাকায় চিকিৎসার আশায় বাইরে অপেক্ষমাণ রোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সেখানে অপেক্ষারত ভুক্তভোগীরা জানান, ডাক্তার রেজাউল করিম কাউকে কিছু না বলেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান এবং অনুরোধ করলে অন্য ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বা প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত থাকেন।
জানা গেছে, বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. শহীদুল ইসলাম নয়নসহ অধিকাংশ চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালেই রোগী দেখার বিনিময়ে সরাসরি টাকা নিচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত টিকিটের বিনিময়ে বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, রোগীদের ২ থেকে ৫ হাজার টাকার অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম নয়ন জানান, এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না।
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালের কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবদুল মোতালেব, নোয়াখালী (চাটখিল-সেনবাগ-সোনাইমুড়ি)