সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ যুবকের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন চার যুবক। মূলত ট্যাংকের ভেতরে আটকে পড়া সহকর্মীদের একে অপরকে বাঁচাতে গিয়েই এই চারজনের করুণ মৃত্যু হয়। আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—গলানিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (১৮), নান্নু মিয়ার ছেলে হৃদয় (৩৫), মোশারফ হোসেনের ছেলে ইমান হোসেন (৩৫) এবং পাশের ধরন্তি গ্রামের শুক্কুর মিয়ার ছেলে আরমান (২১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলানিয়া গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে আলী মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে আজ কাজ চলছিল। দুপুরের দিকে প্রথমে ট্যাংকের সেন্টারিংয়ের কাঠ খুলতে ভেতরে নামেন হৃদয় ও মেহেদী। দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে এবং তারা ওপরে উঠে না আসায়, তাদের উদ্ধারের জন্য একে একে নিচে নামেন ইমান হোসেন ও আরমান। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় তারাও আর ওপরে উঠতে পারেননি এবং ভেতরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সরাইল ইউনিটের পাশাপাশি জেলা সদর থেকেও আরেকটি বিশেষ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেলের শেষ দিকে ট্যাংক থেকে ওই চার যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর পরই ভবন মালিকের পক্ষ থেকে দ্রুত পুলিশ বা স্বজনদের খবর দেওয়া হয়নি। সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলে হয়তো এই চার জোড়া তাজা প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকেই ভবনের মালিক আলী মিয়া পলাতক রয়েছেন। নিহতদের স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড বা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া