কেয়ার শেষ পরীক্ষা ‘ব্ল্যাকমানি’
আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা কেয়া আবারও চলচ্চিত্রে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান। আগামীকাল শুক্রবার সিনেমা হলের পর্দায় হাজির হচ্ছেন আবারও। নিমার্তা ও প্রযোজকদের কথা, এটাই কেয়ার শেষ পরীক্ষা।
৯০টিরও বেশি হলে দর্শকদের সামনে আসছেন কেয়া, তাঁর কাঙ্ক্ষিত ছবি ‘ব্ল্যাকমানি’ নিয়ে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মো. সাফিউদ্দিন সাফি।
এ ছবি দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে ঘুরে দাঁড়াতে চান কেয়া। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি দর্শকদের ছবিটি ভালো লাগবে। আমার অভিনয় জীবনের সেরা ছবি ব্ল্যাকমানি। বড় একটা সুযোগ পেয়েছি এ ছবিতে এবং সেটা মনেপ্রাণে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, দর্শকরা আমাকে পছন্দ করবেন।’ কেয়া আরো বলেন, ‘অনেক ছবিতেই অভিনয় করেছি। কিন্তু ভালো মানের ছবি খুব বেশি পাইনি। সে হিসেবে এটি (ব্ল্যাকমানি) অনেক ভালো মানের একটি ছবি।’
‘ব্ল্যাকমানি’ ছবিতে কেয়ার নায়ক হিসেবে রয়েছেন সায়মন। সঙ্গে রয়েছেন লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার মৌসুমী হামিদ। নতুন প্রযোজনা সংস্থা মুভি প্ল্যানেট মাল্টিমিডিয়ার অফিসে যারাই ‘ব্ল্যাকমানি’ ছবির গান ও ট্রেইলার দেখছেন, তাঁরাই প্রশংসা করছেন। ছবি নিয়ে আশাবাদী পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফি। এই বিষয়টি বড় ভরসা হলেও অ্যনদিকে নায়িকা কেয়ার বিগত দিনের কার্যকলাপ নিয়ে শঙ্কিত প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দি। তিনি বলেন, ‘পরিচালক সাফিউদ্দিন সাফি পরীক্ষিত পরিচালক। তিনি ভালো ছবি বানান। ছবির গল্পটা ভালো, যে কারণে আমরা আশাবাদী। আমরা সবাই ভালো ব্যবসা করব। নায়িকা কেয়ার আগে একটা গান দেখেছি, ভালো লেগেছে।
আমার মনে হয়, সে অভিনয়ও ভালো করেছে। আবার ভয়েও আছি, কারণ সে যে ধরনের স্ক্যান্ডাল করেছে বিগত দিনে, তাতে ছবির ক্ষতিও হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের দর্শক নায়ক-নায়িকাদের নিজেদের আইডল ভাবে, খারাপ কিছু তারা এদের কাছে শুনতে চায় না। এরপর এটাই তার শেষ পরীক্ষা। এই ছবিতে যদি সে ভালো ফল পায়, তাহলে তার দিন শুরু হতে পারে।’
মাত্র ১৪ বছর বয়সে নজরকাড়া গ্ল্যামার নিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে এসেছিলেন চিত্রনায়িকা কেয়া। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কঠিন বাস্তব’ ছবি দিয়ে শুরুতেই দারুণ প্রশংসিত হন। ওই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ।
এরপর প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন চিত্রনায়িকা হিসেবে। অনেকেই দারুণ সম্ভাবনা দেখেছিলেন এ অভিনেত্রীর মধ্যে। কিন্তু হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র থেকে হারিয়ে যান কেয়া। ২০০৮ সালে জুবায়ের নামের এক প্রবাসীকে বিয়ে করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। মাত্র তিন বছরের মাথায় ভেঙে যায় তাঁদের সংসার। দেশে ফিরে আসেন কেয়া। এরপর ২০১১ সালে গুলশান নিকেতনের একটি বাসা থেকে কয়েকটি অভিযোগে আরো সাত নারীর সঙ্গে গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু আবারও চলচ্চিত্রের পথে ফিরে আসেন কেয়া। নিজে থেকেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি চলচ্চিত্রে আবার নিয়মিত হতে চান। ২০১৩ সালে নায়ক রাজ্জাক তাঁকে প্রধান নারী চরিত্র করে তৈরি করেন ‘আয়না কাহিনী’। ছবিটিতে কেয়ার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
‘ব্ল্যাকমানি’ ছবির সিনেমা হল বুকিংকে কেন্দ্র করে এর কাকরাইলের অফিসে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। ছবিটি প্রায় ৯০টি হলে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে।
যেসব হলে ছবিটি মুক্তির জন্য চূড়ান্ত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- অভিসার (ঢাকা), জোনাকী (ঢাকা), এশিয়া ( ঢাকা), পূরবী (ঢাকা),চিত্রামহল (ঢাকা), মুক্তি (ঢাকা),বিজিবি (ঢাকা),পুনম (ঢাকা),সৈনিক ক্লাব (ঢাকা),সনি (ঢাকা), রানীমহল মহল (ডেমরা),নিউ গুলশান (জিঞ্জিরা), গুলশান (নারায়ণগঞ্জ), চন্দ্রিমা (শ্রীপুর), শাপলা (রংপুর), নবীন (মানিকগঞ্জ), শংখ (খুলনা), চিত্রালী (খুলনা), চিত্রবাণী (গোপালগঞ্জ), তিথি (গোবিন্দগঞ্জ), বনানী (কুষ্টিয়া ),সংগীতা (সাতক্ষীরা), ময়ূরী (বাঘ আচরা), পৃথিবী (জয়পুরহাট), বলাকা (ঠাকুরগাঁও), উর্বশী (ফুলবাড়ী), চলন্তিকা (গোপালদী), ছায়াবাণী (নাটোর), প্রিয়া (ঝিনাইদহ), রাজলক্ষী (পাতারহাট), ঝংকার (পাঁচদোনা), নিউ রজনীগন্ধা (চালা ),আনারকলি (টঙ্গী),কানন (ফেনী),কথাচিত্র(কটিয়াদী),মনোয়ার (জামালপুর),রুপকথা (শেরপুর),পূরবী (ময়মনসিংহ),উপহার (রাজশাহী),বিজিবি (সিলেট),মধুমতি (ভৈরব),মুন (মুক্তাগাছা),সূরভী (শিবচর),অভিরুচি (বরিশাল),রূপসী (ভোলা),রেনাজ (সখীপুর),রাজমণি (বোরহানউদ্দিন),চাদমহল (কাচপুর),সোনিয়া (বগুড়া),লালমনি (লালমোহন),মোহনা (কোনাবাড়ি),মোহন (হবিগঞ্জ),মুন (হোমনা), আনন্দ (কুলিয়ারচর),ক্লিওপেট্রা (ধুনট),সাধণা (রাজবাড়ী),ভিক্টোরিয়া (শ্রীমঙ্গল),মানসী (কিশোরগঞ্জ),কাজরী (মতলব),মল্লিকা (উল্লাপাড়া),শাপলা (ভালুকা),মৌসুমী (সিরাজগঞ্জ),আলিম (মঠবাড়িয়া),আলিম (খেপুপাড়া),লিপি (গলাচিপা),কেয়া (টাঙ্গাইল),ফাল্গুনী (নাগরপুর),শাহীন (বল্লাবাজার),মাধবী (মধুপুর),বনালী (শাহাজাদপুর),পালকী (চান্দিনা),হীরামন (নেত্রকোনা),চান্দনা (জয়দেবপুর),মৌসুমী (পাকুন্দিয়া),আনন্দ (ঢাকা),মণিহার (যশোর),মুক্তি (রানীশংকৈল),রুপালী (কুমিল্লা),রুপা (ভান্ডারিয়া),তিতাস (পটুয়াখালী),কংকন (মোহনগঞ্জ) সহ মোট ৯০টির অধিক হল।

মাজহার বাবু