ঢাকার ছবি
কোরিওগ্রাফারদের কেউ মূল্য দেয় না : হাবিব
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বড় একটি জায়গা জুড়ে রয়েছে নাচ ও গান। পর্দার সামনে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরকে দর্শক দেখলেই চিনতে পারেন। এমনকি চলচ্চিত্রের গানে যাঁরা জন্য কণ্ঠ দেন, তাঁদের গলার আওয়াজও দর্শক শুনতে পান, কিন্তু এসব গানের সঙ্গে যে নাচ হয়, নাচের জন্য কোরিওগ্রাফি করেন তাঁকে মানুষ চেনে না। মাঝে মাঝে অবশ্য তাঁদের নাম ছবির পোস্টারে থাকে। তবে বেশির ভাগ সময়েই কোরিওগ্রাফার বা নৃত্যপরিচালকরা থাকেন অবহেলিত। পার্শ্ববর্তী দেশের অনেক কোরিওগ্রাফার বা নৃত্যপরিচালককেই আমরা চিনি। কিন্তু বাংলাদেশে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের কয়জনকেই বা আমরা চিনি? চলুন আজ পরিচিত হই এমনই এক নৃত্যপরিচালকের সঙ্গে, যিনি ঢালিউডে কাজ করেছেন দেড় শতাধিক ছবিতে। তিনি হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে রুপালি জগতে তিনি একনামেই পরিচিত- ডান্স ডিরেক্টর হাবিব।
চলচ্চিত্রের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, ‘১৯৯৭ সালের দিকে আমি গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসি। তখন এক ভাইয়ের বাসায় থাকতাম আর এফডিসিতে কাজের জন্য এসে ঘুরতাম। তখন নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজা ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় এবং ওনার প্রতিষ্ঠানে আমি ১৮ দিন ড্যান্সার হিসেবে কাজ করি।’
‘এরই মধ্যে দেখলাম চলচ্চিত্রে নতুন ছেলেমেয়ে নেওয়া হবে। আমি তাতে অংশ নিই। নিজেরই ভাবতে অবাক লাগে মাত্র ১০ জনকে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে আমিও ছিলাম। মজার বিষয় ছিল, আমি ছাড়া বাকি সবাই এফডিসির পুরোনো শিল্পী ছিলেন।’
কোথায় নাচ শিখেছেন? – এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, ‘আমি আসলে কোথাও নাচ শিখিনি। নেত্রকোনার পাহাড়ঘেঁষা এলাকা বিরিশিরিতে আমার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকে নাচ খুব ভালো লাগত। স্থানীয় স্কুল বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমি নাচ করতাম।’
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে খুব ভালোবাসতেন নৃত্যপরিচালক গাজী কালু ভাই। তিনি কাজের জন্য এফডিসিতে ডাকলেন, গেলাম। কিন্তু সেখানে কাজ করা হয়নি। এরপর কোরিওগ্রাফার মাসুম বাবুল ভাই আমার কাজ দেখে প্রশংসা করলেন। পরে ওনার সাথেই কাজ করতে থাকি। আমি নিজে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত মাসুম বাবুল ভাইয়ের সাথে কাজ করেছি। এখনো যে কোনো প্রয়োজনে তাঁর কাছেই ছুটে যাই।’
কোরিওগ্রাফি শুরু করলেন কীভাবে? কতগুলো ছবির কোরিওগ্রাফি করেছেন এ পর্যন্ত? – জানতে চাইলে হাবিব বলেন, ‘এফ আই মানিক পরিচালিত ‘চাচ্চু’ ছবিতে আমি প্রথম কোরিওগ্রাফি করি। ডিপজল স্যার আমাকে ডেকে কাজটি ধরিয়ে দিলেন, যা ছিল আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। এর পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় দেড়শ ছবিতে কাজ করেছি। চলতি মাসেও আমার তিনটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। মাসের শুরুতে মুক্তি পেয়েছে ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’। গত সপ্তাহে মুক্তি পায় ‘রান আউট’। আগামী শুক্রবার মুক্তি পাবে ‘ভালোবাসার গল্প’।
হাবিব বলেন, ‘আসলে আমাদের দেশে বড় সমস্যা হচ্ছে কোরিওগ্রাফারদের কেউ মূল্য দেয় না। পোস্টারে নামটা পর্যন্ত দিতে চায় না। তাহলে আমরা নিজেদের কাজের প্রশংসা পাব কী করে? অথচ ভারত থেকে একজন কোরিওগ্রাফার আনলে তাঁর নামেই ছবির প্রচারণা চালানো হয়। আমরা আসলে নিজেদের মূল্য দিতে জানি না।’
বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাবিব বলেন, ‘হাবিব ডান্স ফ্লোর নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছি। সেখানে ছেলে-মেয়েরা নাচ শিখে চলচ্চিত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করতে পারবে।’
এমন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে অনেকেই তো প্রতারণা করে। আপনার প্রতিষ্ঠানকে কি বিশ্বাস করবে মানুষ? এই প্রতিষ্ঠান তৈরিই বা করলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, ‘আমরা যখন শুটিংয়ে যাই, তখন দেখি ছেলেমেয়েরা ঠিকভাবে নাচ করতে পারে না। পরিচালকসহ সবাই খুব বিরক্ত হয়, আর শিল্পীরা লজ্জা পায়। আবার অনেকেই আছেন, যাঁরা চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে প্রতারিত হন। আমরা অনেকদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি এবং একটা পরিচিতি তৈরি করেছি, সেহেতু এখানে প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকবে না।’

মাজহার বাবু