গানের খিং, ছবির খিং
‘তুছ প্যারারাচ দেতাখা, নকছুং ফ্রইতে অখ্যইলে ফ্রংরারে’—২০১২ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান : তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ গানের প্রতিযোগিতায় এই গান গেয়ে আলোচনায় আসেন কণ্ঠশিল্পী খিংসাইমং মারমা।
খিংসাইমং মারমা বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, গানটি প্রতিযোগিতায় ভুল করে আমি গেয়েছিলাম। কেউ বুঝতে পারেনি। একটু নার্ভাস ছিলাম, সেদিন তাই এ রকম হয়েছে। গানটার বাংলা এর রকম হবে, আমার ভয় ভয় লাগছে, একদিন দুজনকে দূরে যেতে হবে।’ প্রতিযোগিতায় সেরা ১২-তে ছিলেন খিংসাইমং মারমা।
কেবল গান নয়, ছোটবেলা থেকে ছবিও আঁকেন খিংসাইমং। ১০ বছর ধরে জলরং দিয়ে ছবি আঁকেন তিনি। তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে সাতটি গ্রুপ এক্সিবেশনও হয়েছে। ভবিষ্যতে ছবি নিয়ে বহুদূর এগিয়ে যেতে চান খিংসাইমং মারমা।
নতুন খবর হলো, খিংসাইমং অভিনয় করেছেন! তবে ছোট কোনো পর্দায় নয়, রাজীবুল হোসেন পরিচালিত ‘হৃদয়ের রংধনু’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে খিংসাইমং মারমা বলেন, ছোটবেলা থেকে আমার অভিনয় করার ইচ্ছা ছিল। হঠাৎ সুযোগটা পেয়ে গেলাম। আমার ক্লাসমেট শশী একদিন আমাকে বলল, দোস্ত, তুই অভিনয় করবি? তুই যদি অভিনয় করতে চাস, তাহলে এখানে চলে আয়।
আমিও ওর ঠিকানামতো গন্তব্যে যথাসময় পৌঁছাই। ধানমণ্ডি-২-এর একটা রেস্টুরেন্টে আমরা বসি। আমি সেদিন টি-শার্ট পরেছিলাম, চুল এ রকম বড় ছিল। যাওয়ার পর পরিচালক শুধু আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন, কিন্তু কোনো কথা বলেননি। আমি তো অবাক! মনে মনে ভাবলাম, আমাকে হয়তো তাঁর পছন্দ হয়নি।
অনেকক্ষণ পর তিনি আমাকে বললেন, আপনি কি চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন?
আমি উত্তর দিলাম, ভাই, আমি তো কোনোদিন অভিনয় করিনি। তবে আমার খুব ইচ্ছা আছে। আপনার যদি মনে হয় আমাকে দিয়ে অভিনয় সম্ভব, তাহলে আমি রাজি আছি।
তার পর তিনি আমাকে বললেন, ঠিক আছে, আপনাকে নিয়ে আমরা কাজ করব। ছবিতে আমার চরিত্রের নামও খিং। আসলে ছবিতে আমার মতো একজন চরিত্র প্রয়োজন ছিল। তাই পরিচালক আমাকে দেখে হয়তো পছন্দ করেছিলেন।
খিং আরো বলেন, ছবিটিতে সার্বিয়ান মডেল মিনা, বাংলাদেশের সজল ও শামস কাজ করেছেন। আমি অনেক ভাগ্যবান, আদিবাসী হয়ে শুরুতে এ ধরনের কমার্শিয়াল ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। পরিচালকও বলেছেন, তাঁর জন্য এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ছবিটির কোনো চিত্রনাট্য ছিল না। আমরা নিজেরাও জানতাম না, আমরা কী করছি। পরিচালক যেভাবে বলেছেন, আমরা শুধু সেভাবে অভিনয় করেছি। কাহিনী এখনো পুরোপুরি জানি না। এখনো অনেক অজানার মধ্যে আছি।
প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল—জিজ্ঞাসা করতে খিং উত্তর দিলেন, যেহেতু চিত্রনাট্য ছিল না, তাই পরিচালক যেভাবে দৃশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমরা সেভাবে অভিনয় করেছি। যেমন উনি বলেছেন, ‘তোমরা এখন বিপদে পড়েছ, নিজেকে বাঁচাতে কী করবে? কীভাবে বাঁচতে হবে, আমরা সেভাবে অভিনয় করে দেখিয়েছি। অভিনয়ের জন্য বাড়তি কোনো প্রস্তুতি ছিল না।
‘হৃদয়ের রংধনু’ ছবিটি দর্শক কেন দেখবে? প্রশ্ন শুনে খিং বললেন, ‘দর্শক অবশ্যই হলমুখী হবে, কারণ বাংলাদেশে এ রকম অ্যাডভেঞ্চার ছবি আগে তৈরি হয়নি।

নাইস নূর