পর্যালোচনার টেবিলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা
২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে পুরস্কারের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার কথা ভাবছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অমান্য করে আজীবন সম্মাননা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য না লিখেও একজন নির্মাতার নাম সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও প্রশ্ন ওঠে। এ ছাড়া জুরিবোর্ডের সুপারিশ উপেক্ষা করার অভিযোগও সামনে আসে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে জুরিবোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। শিগগিরই পুরস্কারের ফলাফল নিয়ে রিভিউ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
জুরিবোর্ডের সদস্যরা জানান, আজীবন সম্মাননার জন্য অভিনেত্রী শবনম ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস জাভেদের নাম সুপারিশ করেছিলেন তারা। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক-নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চুকে।
এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে—আজীবন সম্মাননা সাধারণত জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনায় দেওয়া হয়। অথচ তারেক মাসুদ প্রজ্ঞাপন ঘোষণার প্রায় দেড় দশক আগেই মারা গেছেন। অন্যদিকে আবদুল লতিফ বাচ্চু মারা গেছেন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাত্র কয়েক দিন আগে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির সদস্য মকসুদ জামিল মিন্টু বলেন, ‘আমরা বিচারকরা ফলাফল নিয়ে একমত হয়েছিলাম। আজীবন সম্মাননা ও অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছিল না। কিন্তু প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দেখা গেছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে বিচারকদের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। একজন বিচারক হিসেবে চাইব, প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিচারকদের রায়ের পূর্ণ প্রতিফলন থাকুক। তাই রিভিউ হলে ভালো।’
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন জুরিবোর্ডের আরেক সদস্য সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দেখেছি কয়েকটি ক্ষেত্রে আমাদের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার যেন স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত থাকে—এটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত। এ বিষয়ে আবার ডাকলে বিচারক হিসেবে সময় দিতে রাজি আছি।’
এদিকে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘রক্তজবা’ শিরোনামের একটি নির্মাণকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, এর চিত্রনাট্য না লিখেও পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার নাম সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে প্রজ্ঞাপনে প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি নিজেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিতর্ক এড়াতে এবং বিচারকদের দেওয়া নম্বরের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতেই পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা ও কয়েকটি বিভাগ নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন হলে আজীবন সম্মাননার তালিকা থেকে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুর নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিনোদন ডেস্ক