জুবিনের অর্থ আত্মসাৎ, ম্যানেজারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ আদালতের
ভারতের প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ২৯ এপ্রিল আসামের গুয়াহাটির একটি আদালত সিদ্ধার্থের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ও তার ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেয়।
মামলায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, তিনি গায়কের অর্থ আত্মসাৎ করে ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন।
অভিযোগপক্ষের দাবি অনুযায়ী, প্রয়াত গায়কের থেকে সুকৌশলে হতিয়ে নেওয়া টাকা দিয়েই নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ রুপি ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের উল্লেখ রয়েছে। বৈধ আয়ের উৎসের কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেননি বলেই আদালত ৪৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট তৈরি করেছে। শর্মার নামে থাকা বা তার দ্বারা পরিচালিত ছয়টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারক শর্মিলা ভূয়ান জানান, মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন বেশ কিছু নথি পেশ করেছেন যা থেকে স্পষ্ট গায়কের অর্থ যথেচ্ছভাবে খরচ করা হয়েছে। একাধিক বেআইনি কাজের সঙ্গেও জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সিদ্ধার্থ শর্মার আয়ের উৎস মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আদালতের মতে, এমন কিছু নথি উপস্থাপন করা হয়েছে যা থেকে বৃহৎ পরিসরে অর্থ আত্মসাৎ, তহবিল স্থানান্তর এবং কালো টাকা সাদা করার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, শর্মার নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া অর্থের উল্লেখ রয়েছে। শর্মার এই বিপুল অর্থের উৎস কী? যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতেও অপারক, শুধু তাই নয় যথাযথ আর্থিক নথি যেমন আয়কর রিটার্ন বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিল উপস্থাপন করতেও ব্যর্থ জুবিন গর্গের ম্যানেজার।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে পানিতে ডুবে মারা যান জুবিন গার্গ। তার এই আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বাঁধলে আসাম সরকারের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে জুবিন ঘনিষ্ঠদের ওপর সন্দেহের তীর ওঠে, যার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসে ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার। পুলিশের অভিযোগ, গায়কের অর্থ আত্মসাৎ করেই সিদ্ধার্থ তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়েছিলেন।

বিনোদন ডেস্ক