মেয়েকে হারিয়ে ক্ষমা চাইলেন কায়সার হামিদ
লিভারের জটিলতায় মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা যাওয়ার পর গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে মেয়ের বিদায়ের কথা জানান তিনি।
শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করার কিছু সময় পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেয়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন কায়সার হামিদ।
সেই পোস্টে একজন বাবার অসহায় কষ্ট যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি লেখেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’
মেয়েকে হারানোর শোকের মধ্যেও সবার কাছে কারিনার জন্য ক্ষমা চান তিনি। কায়সার হামিদ লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’
কঠিন এই সময় পাশে থাকা মানুষদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পোস্টে আরও লেখেন, ‘যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’
এর আগে গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানিয়েছিলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ করেই কারিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় তাঁর রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা যায়নি।
গত সোমবার দিবাগত রাতে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কারিনাকে চেন্নাই নেওয়া হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। কয়েক দিন আগে হেপাটাইটিস এ–তে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত অবনতি হতে থাকে তাঁর শারীরিক অবস্থার। আগে থেকেই থাকা ফ্যাটি লিভারের সমস্যার সঙ্গে নতুন জটিলতা যুক্ত হয়ে একপর্যায়ে তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি, হাসিমুখ আর জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে তরুণদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন কারিনা। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই প্রাণবন্ত মুখটিই নিভে গেল চিরতরে।

বিনোদন ডেস্ক