লেসিক কীভাবে করা হয়?
লেজারের মাধ্যমে চোখের চিকিৎসাই হলো লেসিক। এটি বর্তমানে আধুনিক ও প্রচলিত চিকিৎসা। লেসিক কীভাবে করা হয়?
এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৫৮৪তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. সিদ্দিকুর রহমান। বর্তমানে তিনি ভিশন আই হসপিটালে গ্লুকোমা অ্যান্ড রিফ্রাকটিভ সার্জারি বিভাগে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : লেসিক কীভাবে করা হয়?
উত্তর : এর আগে আরেকটি কথা বলে নিই, অনেকের মনে দুঃখ থাকতে পারে, লেসিক নিয়ে। ১৩ বা ১৫-এ ধরনের পাওয়ারেরও অনেক মানুষ রয়েছে। তাদের লেসিক করা যায় না। এত পাওয়ার লেসিকে ঠিক করা যায় না। তাদের কী হবে? আমরা ছানি অস্ত্রোপচার করে চোখের ভেতরে একটি নতুন লেন্স লাগিয়ে দেই, এ ক্ষেত্রে এ রকম করা হয়। যদিও একজন ২০ বছরের রোগী, তার ছানি নেই, তার চোখের ভেতরে আমরা লেন্সকে প্রতিস্থাপন করে আরেকটি লেন্স লাগিয়ে দেই, ওই পরিমাণ পাওয়ার দিয়ে যেই পরিমাণ পাওয়ারে আর চশমা লাগবে না। তবে এরও অনেক জটিলতা রয়েছে। কারণ, কাছে পড়ার জন্য চশমা লাগবে। এই জায়গাটা আমরা পেরিয়ে আসতে পারছি। তিন বছর ধরে আমরা এই সার্জারিটা করছি। চোখের ভেতর আমরা লেন্স লাগাচ্ছি। তবে তার প্রাকৃতিক যে লেন্স রয়েছে, একে বদলে দিচ্ছি না। প্রাকৃতিক লেন্সের একটি কাজ হলো, আমরা দূর থেকে যখন কাছে দেখি, জুম করার বিষয়টা এই লেন্সের মধ্যে থাকে। সুতরাং আমি একটি বাড়তি লেন্স বসিয়ে দিলে সারা জীবন চলবে। তাহলে সে দূরে বা কাছে দুটোই করতে পারছে। যারা লেসিক করতে পারবে না, তাদের জন্য এ পদ্ধতি।
আর লেসিক খুব সহজ বিষয়। মেশিনটা খুব বড়। তবে দেখতে খুব সুন্দর। দেখলে ঠিক মেশিন মনে হয় না। মেশিনের নিচে আমরা তাকে দেখি। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হয়। রোগী শোয়া থাকে। চোখ যেন নড়াচড়া না করে এ জন্য একটি যন্ত্র দিয়ে ধরে রাখি। একটু নড়লে কিছু হয় না, সেটি মেশিন ঠিক করতে পারে। রোগীকে বলি যে আপনি আলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটা আড়াই থেকে তিন মিনিট লাগে। আর লেজারের অংশটি ১২ থেকে ২০ সেকেন্ড লাগে।
একটি দিন চোখে একটু পানি আসে, চোখ খচ খচ করে, ব্যথাভাব হয়। এটা তেমন কিছু নয়। কেবল একটি ওষুধ দেই, ড্রপ দেই। পরের দিনই রোগী চেম্বারে হাসি মুখে আসে।

ফিচার ডেস্ক