কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৫ খাবার
শীতের উৎসবের আমেজ মানেই পিকনিক, বিয়ে বাড়ি আর রাস্তার পাশের মুখরোচক খাবারের হাতছানি। এই সময়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আসে। উৎসবের আমেজে আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আমাদের শরীরের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শীতের এই মৌসুমে কোলন ক্যানসার থেকে বাঁচতে কোন ৫টি খাবার এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন।
চিকিৎসকদের মতে, নিচের খাবারগুলো কোলনের কোষের ক্ষতি করতে পারে:
১. প্রক্রিয়াজাত মাংস
শীতের সকালে সসেজ, সালামি, বেকন বা হ্যাম দিয়ে ব্রেকফাস্ট করা অনেকেরই পছন্দের। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস ‘কার্সিনোজেনিক’ বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী। এগুলো দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক নাইট্রাইট কোলনের আস্তরণের ক্ষতি করে।
২. রেড মিট বা লাল মাংস
খাসি বা গরুর মাংসের অতিরিক্ত চর্বি কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা বা ঝলসানো মাংস (যেমন—শিক কাবাব বা বারবিকিউ) খাওয়ার সময় সাবধান হওয়া জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় হিটারোসাইক্লিক অ্যামাইনস তৈরি হয়, যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ।
৩. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও সোডা
উৎসবের মৌসুমে কোল্ড ড্রিঙ্কস বা প্যাকেটজাত ফলের রস খাওয়ার ধুম পড়ে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহ তৈরি করে এবং স্থূলতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনিযুক্ত পানীয় কোলন ক্যানসারের টিউমার বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট বা ময়দার তৈরি খাবার
পিৎজা, বার্গার, সাদা পাস্তা বা ময়দার তৈরি লুচি-পরোটা—এই খাবারগুলোতে ফাইবার বা আঁশ থাকে না বললেই চলে। ফাইবারহীন খাবার হজম হতে দেরি হয় এবং কোলনে বিষাক্ত পদার্থ জমতে সাহায্য করে। কোলন পরিষ্কার রাখতে আঁশযুক্ত খাবারের বিকল্প নেই।
৫. ভাজাভুজি ও ট্রান্স ফ্যাট
রাস্তার পাশের চপ, কাটলেট বা একই তেলে বারবার ভাজা খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এই ফ্যাট মলাশয়ে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শীতে স্ট্রিট ফুড খাওয়ার সময় তেলের মান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সুরক্ষার উপায় কী?
শাকসবজি ও ফলমূল: খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রাখুন। আপেল, পেয়ারা এবং শীতের রঙিন সবজি (যেমন—ব্রকলি, গাজর) কোলন পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি পান: শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
শারীরিক পরিশ্রম: উৎসবের খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি দিনে অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটুন।
উৎসবের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী করতে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া আবশ্যিক। জিভের স্বাদ মেটাতে গিয়ে নিজের কোলনকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না। সচেতন খাদ্যাভ্যাসইপারে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি থেকে আপনাকে দূরে রাখতে।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

ফিচার ডেস্ক