মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চায় ডব্লিউএইচও
গাজা, সুদান, হাইতি এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসহ বিশ্বের ৩৬টি অত্যন্ত গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ১০০ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থাটি ধারণা করছে যে, এ বছর প্রায় ২৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হবে এবং এই অর্থ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে ব্যয় করা হবে।
জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচও-র জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিষয়ক প্রধান চিকওয়ে ইহেকওয়েজু বলেন, বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ এমন এক মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছে যা তাদের মৌলিক নিরাপত্তা, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে।
ইহেকওয়েজু সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে আঘাত পাওয়ার ঘটনা, রোগের প্রাদুর্ভাব, অপুষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর চিকিৎসার অভাবে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা আকাশচুম্বী হচ্ছে। অথচ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
বিশ্বব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য তহবিলের তীব্র সংকটের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবারের জরুরি আবেদনের পরিমাণ গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ঐতিহ্য অনুযায়ী জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর বৈদেশিক সহায়তা খাতে ব্যাপক কাটছাঁট করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প ডব্লিউএইচও থেকে এক বছরের নোটিশে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের বিষয়টি সামনে এনেছিলেন।
গত বছর ডব্লিউএইচও ১৫০ কোটি ডলারের আবেদন করেছিল, তবে ইহেকওয়েজুর তথ্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯০ কোটি ডলার পাওয়া গিয়েছিল।
ইহেকওয়েজু আক্ষেপের সাথে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুঝতে পারছে আগের বছরগুলোর তুলনায় এখন সম্পদ সংগ্রহের সুযোগ অনেক কমে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি এবং অনেক দেশের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে আমরা বাস্তবসম্মতভাবে যা পাওয়া সম্ভব, তার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের আবেদনের পরিমাণ নির্ধারণ করেছি।’
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালে তারা সবচেয়ে বেশি কার্যকর সেবাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কমিয়ে আনছে যাতে সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।
ইহেকওয়েজু জানান, গত বছর বিশ্বব্যাপী তহবিল কমে যাওয়ার কারণে ২২টি মানবিক সংকটপূর্ণ এলাকায় ৬ হাজার ৭০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয় বন্ধ হয়ে গেছে অথবা তাদের সেবা কমানো হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ইহেকওয়েজু আরও বলেন, ‘প্রান্তিক পরিবারগুলোকে এখন অসম্ভব সব সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—যেমন তারা খাবার কিনবে নাকি ওষুধ কিনবে। মানুষের কখনোই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া উচিত নয়। এজন্যই আজ আমরা দেশগুলোর প্রতি এবং সাধারণ মানুষের বিবেকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি এবং একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বিশ্বের জন্য বিনিয়োগ করতে বলছি।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক